তাপীয় সমতা কাকে বলে? What is Thermal Equilibrium?

যদি একটি অত্যধিক উত্তপ্ত বস্তুকে উন্মুক্ত অর্থাৎ খোলা জায়গায় রাখা হয়, তাহলে দেখা যাবে বস্তুটি পরিবেশে তাপ হারিয়ে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। আবার, ঠাণ্ডা বা শীতল কোন বস্তুকে খোলা জায়গায় রাখলে তা পরিবেশ থেকে তাপ গ্রহণ করে উত্তপ্ত বা গরম হতে থাকে। এ ঘটনা চলতে থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত বস্তুর তাপমাত্রা পরিপার্শ্ব বা পরিবেশের তাপমাত্রার সমান না হয়। অর্থাৎ এই সময় বস্তুটি তাপ বর্জন বা গ্রহণ করে না। এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, বস্তুটি পরিপার্শ্বের সাথে তাপীয় সমতা বা সাম্যাবস্থায় আছে।

“কোন ব্যবস্থা তাপীয় সাম্যে আছে” বলতে বুঝায় তাপীয় সাম্যাবস্থায় বস্তুটির বিভিন্ন অংশ এবং পরিপার্শ্ব একই তাপমাত্রায় থাকে এবং এদের মধ্যে কোন তাপ বিনিময় ঘটে না।”

মনে করি, দুটি বস্তু A ও B ভিন্ন ভিন্ন তাপমাত্রায় আছে। এখন A কে স্পর্শ করলে ঠাণ্ডা এবং B কে স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হয়। বস্তু দুটিকে একসাথে রাখার বেশ খানিকক্ষণ পর তাদের মিলিত তাপমাত্রা একই পাওয়া যাবে। এ অবস্থায় A এবং B বস্তু দুটি পরস্পরের সাথে তাপীয় সাম্যে আছে বলা হয়। তাই তাপীয় সাম্যের যুক্তিসংগত কার্যকরী পরীক্ষার জন্য তৃতীয় একটি বস্তু ব্যবহার করা প্রয়োজন। সূত্রের মাধ্যমে বিবৃত করলে “A ও B দুটি বস্তু যদি তৃতীয় আর একটি বস্তু C এর সাথে পৃথক ভাবে তাপীয় সাম্যে থাকে তাহলে A ও B পরস্পরের সাথে একই তাপীয় সাম্যে থাকবে।” একে তাপগতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্র বলা হয়। এই C বস্তুটি থার্মোমিটার।

পরস্পরের সাথে তাপীয় সাম্যে থাকা ব্যবস্থাসমূহ আমাদের কাছে সমপরিমাণ গরম মনে হয় অর্থাৎ তাদের তাপমাত্রা অভিন্ন। তাপীয় সাম্যে না আসা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবস্থায় তাপমাত্রা বিভিন্ন থাকে। সুতরাং একটি ব্যবস্থায় তাপমাত্রা একটি ধর্ম যা দ্বারা অন্যান্য ব্যবস্থার সাথে ঐ ব্যবস্থা তাপীয় সাম্যে থাকবে কিনা নির্ণীত হয়।